ব্যঞ্জনধ্বনি কুইজ পার্ট-৩: এসএসসি বাংলা ব্যাকরণ পরিচ্ছেদ ৭ (প্রস্তুতি ও সমাধান)

ব্যঞ্জনধ্বনি কুইজ পার্ট-৩: এসএসসি বাংলা ব্যাকরণ পরিচ্ছেদ ৭ (প্রস্তুতি ও সমাধান)

 


ব্যঞ্জনধ্বনির রহস্যভেদ: ব্যাকরণ হোক এবার হাতের মোয়া (অংশ-৩)

সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের সবাইকে আবারও স্বাগতম আমাদের বিশেষ কুইজ সিরিজে! আমরা গত পর্বে ব্যঞ্জনধ্বনির প্রাথমিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজ আমরা এই পরিচ্ছেদের আরও গভীরে প্রবেশ করবো। তোমরা অনেকেই হয়তো মনে করো ব্যাকরণ মানেই শুধু মুখস্থ করা, কিন্তু আসলে এটি একটি বিজ্ঞানের মতো। বিশেষ করে ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ প্রক্রিয়া জানলে এটি তোমার কাছে অত্যন্ত আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে।

আজকের ৩য় অংশে আমরা আলোচনা করবো ১৯ থেকে ৩৫ নম্বর প্রশ্ন পর্যন্ত, যেখানে মূলত ধ্বনির প্রকৃতি, বাতাসের চাপের তারতম্য এবং বাকপ্রত্যঙ্গের ব্যবহার নিয়ে চমৎকার সব তথ্য রয়েছে।

অল্পপ্রাণ বনাম মহাপ্রাণ: বাতাসের খেলা

তোমরা কি জানো, কিছু ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমাদের মুখ দিয়ে কম বাতাস বের হয়, আর কিছু ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের ঝাপটা বেশি থাকে?

  • অল্পপ্রাণ: ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ যখন কম থাকে, তখন তাকে অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে (যেমন: চ, প)।

  • মহাপ্রাণ: যখন বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তখন তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলা হয় (যেমন: খ, ঘ)।

শিসধ্বনি বা উষ্মধ্বনি কী?

কিছু ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময় মুখবিবরের কোথাও বাতাস পুরোপুরি বাধা পায় না, বরং ঘর্ষণ তৈরি করে এক ধরনের শিস দেওয়ার মতো আওয়াজ তৈরি করে। একেই বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিসধ্বনি। যেমন: 'শ', 'স'। এগুলো আমাদের বর্ণমালার খুব ইন্টারেস্টিং কিছু ধ্বনি।


ব্যঞ্জনধ্বনির বিশেষ শ্রেণিবিভাগ (টেবিল ফরমেট)

নিচে তোমাদের প্রস্তুতির সুবিধার জন্য আজকের পাঠের প্রধান বিষয়গুলো টেবিল আকারে দেওয়া হলো:


বিষয়বিবরণউদাহরণ
ঘোষ মহাপ্রাণউচ্চারণে গাম্ভীর্য ও বাতাসের চাপ উভয়ই বেশি থাকেখ, ঘ
তালু স্পৃষ্টজিভ তালুকে স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়চ, ছ
ওষ্ঠ্য ধ্বনিদুই ঠোঁটের সাহায্যে উচ্চারিত হয়প, ফ, ব, ভ, ম
পার্শ্বিক ধ্বনিজিভের দুই পাশ দিয়ে বাতাস বের হয়
কম্পিত ব্যঞ্জনজিভ কাঁপিয়ে উচ্চারিত হয়র (যেমন: চানাচুর শব্দে)
তাড়িত ব্যঞ্জনজিভের ডগা দিয়ে মূর্ধাকে আঘাত করেড়, ঢ়

বাকপ্রত্যঙ্গ ও উচ্চারণ স্থান

ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টির জন্য বাকপ্রত্যঙ্গের নির্দিষ্ট জায়গাগুলো চেনা খুব জরুরি।

  • জিভের ডগা যখন উপরের পাটির দাঁতের গোড়ায় লাগে, তখন তাকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।

  • আবার 'শ' উচ্চারণের সময় জিভের মধ্যভাগ তালুর কাছে যায় বলে একে তালব্য ধ্বনি বলা হয়।

  • দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির মূল কারিগর বা মুখ্য বাকপ্রত্যঙ্গ হলো আমাদের জিভের ডগা।

কুইজে অংশ নেওয়ার বিশেষত্ব

নিচে দেওয়া কুইজটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে তোমরা পরীক্ষার হলে বসে প্রশ্ন পাওয়ার অনুভূতি পাও। প্রতিটি প্রশ্ন তোমাদের পাঠ্যবইয়ের একদম গভীরে থাকা তথ্য থেকে নেওয়া হয়েছে। ১. প্রশ্নটি মনোযোগ দিয়ে পড়ো। ২. সঠিক উত্তরটিতে ক্লিক করো। ৩. উত্তর ভুল হলে ভেঙে পড়ো না, কারণ সাথে সাথেই তোমরা সঠিক উত্তরটি দেখতে পাবে। ৪. কুইজ শেষে তোমার দক্ষতা যাচাই করতে রেজাল্ট চেক করো।


উপসংহার

ব্যঞ্জনধ্বনির এই ৩য় অংশটি তোমাদের ব্যাকরণ ভীতি দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আমরা চেষ্টা করছি ধাপে ধাপে পুরো বইটির কুইজ তোমাদের সামনে নিয়ে আসতে। মনে রাখবে, এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় ভালো করতে হলে মূল বইয়ের প্রতিটি লাইনের অর্থ বোঝা এবং তা বারবার চর্চা করা অপরিহার্য।

ব্যঞ্জনধ্বনির এই যাত্রা এখনই শেষ হচ্ছে না! আমাদের পরবর্তী অংশে (অংশ-৪) আমরা আরও নতুন কিছু চমক নিয়ে হাজির হবো। তোমাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে বা কোনো বিশেষ ধ্বনি বুঝতে সমস্যা হলে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বা কমেন্ট সেকশনে জানাতে ভুলো না।

পড়াশোনা হোক আনন্দের, প্রস্তুতি হোক PDF Pedia BD-র সাথে।




পরিচ্ছেদ

০৮

ব্যঞ্জনধ্বনি (অংশ-৩)

Post a Comment

Previous Next

Follow Us

نموذج الاتصال